skip
BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
সর্বশেষ
Home / আন্তর্জাতিক / এবার আর আহব্বান নয়; দীর্ঘ বিবৃতিতে সুচিকে স্পষ্টই সতর্কবার্তা দিলো জাতিসংঘ

এবার আর আহব্বান নয়; দীর্ঘ বিবৃতিতে সুচিকে স্পষ্টই সতর্কবার্তা দিলো জাতিসংঘ

প্রকাশঃ ১৭-১২-২০১৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক আপডেট ডেস্ক- রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে সমালোচনার মুখে আগেই পড়েছিলেন অং সান সুচি। সুচির নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের সাথে যে আচরণ করছে তার তীব্র নিন্দা করে সমস্যা সমাধানের আহব্বান জানিয়েছিলো জাতিসংঘ। তবে এবার এবার আর আহব্বান নয়; দীর্ঘ বিবৃতিতে এ দফায় সুচিকে স্পষ্টই সতর্কবার্তা দিলো জাতিসংঘ

‘রাখাইন রাজ্যের সমস্যা মোকাবেলায় মিয়ানমারের সরকার যে নীতি নিয়েছে তাতে বরং উল্টো ফল হচ্ছে’ উল্লেখ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের প্রধান যাইদ রাদ আল হুসেইন এক দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের ‘গাছাড়া’ ভাব বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন শংকা প্রকাশের পাশাপাশি দেশটির ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেত্রী নোবেলজয়ী অং সান সু চিকে এক সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেন।

বিরোধপূর্ণ উত্তরাঞ্চল পরিদর্শনের আহ্বান জানানোর কদিন পরেই সুচিকে এমন সতর্কবার্তা দিলো জাতিসংঘ । “মিয়ানমার সরকারকে বিপজ্জনক ও অসহনীয় রাখাইন সঙ্কট, যা এরই মধ্যে বিস্তৃত হয়ে অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে দীর্ঘ বিবৃতিতে হাই কমিশনার বলেন, মিয়ানমার সরকার যদি সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘হালকা, নিষ্ফল বা গাছাড়া’ ভাব নিয়ে দেখে তাহলে তা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

জেইদ বলেন, “রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও জালিয়াতি অ্যাখ্যা দিয়ে সেখানে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের আবেদন ধারাবাহিক খারিজ করা হচ্ছে, যা নির্যাতিতদের জন্য অপমানস্বরূপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চল পরিদর্শনে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের আবেদন ‘এখনও গৃহীত না হওয়ায়’ তীব্র হতাশাও ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার।

“কর্তৃপক্ষের যদি লুকানোর কিছু না থাকে, তাহলে কেন তারা সেখানে যেতে বাধা দিচ্ছে? বারবার আমাদের অনুমতি দিতে ব্যর্থতায় আমাদের শঙ্কা, সেখানে ভয়াবহ কিছু হতে পারে।”

বিরোধপূর্ণ উত্তর রাখাইনে শান্তি ফেরাতে দেশটির সরকারকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নিরসনে ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ জানান তিনি।

“মিয়ানমার উত্তর রাখাইনের পরিস্থিতি যেভাবে সামলাচ্ছে তা খারাপ পরিস্থিতিকে কী করে নিকৃষ্ট অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায় তার একটি উদাহরণ হতে পারে।”

আরও পড়ুন:   ফেইসবুক সরকারকে ব্যবহারকারীর আরও কিছু তথ্য দিল , কি আছে বিস্তারিত

তিনি আরও বলেন, “আমি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে পেছনে ফিরে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে ওই অঞ্চলে চালানো নিরাপত্তা অভিযানের প্রভাব বিবেচনা করতে অনুরোধ করছি।”

অক্টোবরে সীমান্ত পোস্টে এবং পরে গত ১২ নভেম্বর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেইদ তার বিবৃতিতে বলেন, “এগুলো কঠিন অপরাধ; এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও পরিকল্পনাকারীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। কিন্তু যতদূর শুনেছি, ওই অপরাধের জন্য নিরাপত্তাবাহিনী পুরো সম্প্রদায়কে শাস্তি দিচ্ছে। তাদের প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা, এবং মাত্র দুই মাসের মধ্যে কম করে হলেও ২৭ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশের সীমান্ত অভিমুখে পালিয়ে গেছে।”

নিরাপত্তা বাহিনীর এমন মনোভাবকে ‘ভুল’ অ্যাখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান বলেন , “দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, দুনিয়ায় এখন এমন অসংখ্য উদাহরণ বিদ্যমান যেখানে- সমস্যার মূল না খুঁজে নিরাপত্তার নামে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার চলছে। ফল হয়েছে ভয়ানক, অনেকেই বাস্তুহারা হয়েছেন, বিকাশ ঘটেছে সহিংস জঙ্গিবাদের। এবং শেষ পর্যন্ত সবাই পরাজিত হয়েছি।”

শান্তি ফেরাতে মিয়ানমারের রাজনীতিক ও সামরিক নেতারা এক হয়ে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটির সম্প্রদায়গুলোকে আশ্বস্ত করার কর্মসূচি নিতে পারে বলেও পরামর্শ দিয়ে জেইদ তার বিবৃতিতে বলেন, “ক্ষোভের কথা শুনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে তা মেটাতে কাজ করতে হবে; যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ মিলবে সেখানে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করে দুষ্কৃতকারীদের- তারা যেই হোক না কেন, বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

‍মিয়ানমার সরকারকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় প্রস্তুত আছে বলেও জানান হাইকমিশনার। পরিস্থিতির উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা উল্লেখ করে জেইদ নিরপেক্ষ পর‌্যবেক্ষদের শর্তহীনভাবে বিরোধপূর্ণ ওই অঞ্চল পরিদর্শনে অনুমতি দেয়ার ওপর জোর দেন।

বিরোধপূর্ণ ওই এলাকায় বিদেশি সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, যা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের প্রধান জেইদ।
রির্পোটিং:জাহিদ হাসান রকি।

Facebook Comments
error: Content is protected !!