BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Home / জাতীয় / বিদেশে জুয়ার ক্লাবে কোটি কটি টাকা উড়াচ্ছেন ‘সরকার দলীয় শীর্ষ নেতা’

বিদেশে জুয়ার ক্লাবে কোটি কটি টাকা উড়াচ্ছেন ‘সরকার দলীয় শীর্ষ নেতা’

উড়ছে কোটি কোটি টাকা, চালকের আসনে সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা, যিনি সবার কাছে জুয়া সম্রাট নামে পরিচিত * সবই জানে প্রশাসন তবুও নিশ্চুপবিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল হোটেল সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে। ভিআইপি ক্যাসিনো (জুয়ার আস্তানা) হিসেবে যার বিশেষ পরিচিতি। এখানে প্রতিটি ‘লিডে’ ওড়ে কোটি কোটি ডলার। আসরের মধ্যমণি বাংলাদেশী এক যুবক। চোখে কালো চশমা, গায়ে সাদা শার্ট। তাকে ঘিরে আছে একাধিক সশস্ত্র দেহরক্ষী। দৃশ্যটি দেখলে মনে হবে বিদেশী অ্যাকশন সিনেমার কোনো খলনায়ক। কিন্তু অবাক হলেও সত্য যে- এ বিশেষ ব্যক্তি ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতা। দলের শিষ্যরা তাকে ‘বস’ বলে সম্বোধন করতে পছন্দ করলেও দেশ-বিদেশের বড় বড় জুয়ার আস্তানাগুলোতে তিনি ‘সম্রাট’ নামেই বেশি পরিচিত। দেশে তিনি জুয়া না খেললেও এখানকার জুয়ার কোর্টের টাকায় জুয়া খেলেন মেরিনা বে’তে।

আলোচিত এ যুবলীগ নেতা সিঙ্গাপুরের জুয়ার বোর্ডে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাজি ধরেন। বেশিরভাগ সময়ই হেরে যান। জেতেনও মাঝে মাঝে। এটা তার নেশা। প্রশ্ন উঠতে পারে, এত টাকা তিনি পান কোথা থেকে। সোজাসাপটা উত্তর, জুয়ার কোর্টে উড়ানো বিপুল অংকের টাকা তার নিজের উপার্জিত নয়। উৎস এখনও অজানা। সূত্র বলছে, তার টাকার সবচেয়ে বড় উৎস হল ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের জুয়ার নেটওয়ার্ক। তিনি জুয়া সাম্রাজ্যের রাজাও বটে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তার শেল্টারে রাজধানীতেই অন্তত দেড়শ’ জুয়ার স্পট চলছে। প্রায় প্রতিটি জুয়ার স্পট গড়ে উঠেছে সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোর আদলে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এসব জুয়ার আসর খোলা থাকে। পাহারায় নিয়োজিত নিজস্ব অস্ত্রধারী টিম। এদের আইনি ঝামেলা থেকে সুরক্ষা দেয় খোদ পুলিশ প্রশাসনেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

একজন উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, একেকটি স্পটে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ কোটি টাকার জুয়া খেলা হয়। সে হিসাবে রাজধানীর জুয়ার স্পটগুলোতে দৈনিক ৩০০ কোটি টাকা উড়ছে। এ টাকার একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে চলে যায় বিদেশে। আর সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে’তে বসে এ টাকা দিয়ে জুয়া খেলা ছাড়াও আরাম-আয়েশ করেন ‘সম্রাট’ নামের জনৈক ওই যুবলীগ নেতা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সম্রাট নামের এ যুবলীগ নেতার হাত ধরে রাজধানীতে আরও অনেক ‘জুয়া সম্রাট’র জন্ম হয়েছে। রাজধানীর নামিদামি ক্লাবগুলো খেলাধুলা চর্চার জন্য গড়ে উঠলেও বাস্তবে সেগুলো পরিণত হয়েছে জুয়ার আস্তানায়। আর সবই সম্ভব হয়েছে কথিত এ জুয়া সম্রাটের কল্যাণে। তাই বেশিরভাগ ক্লাব জুয়াসহ রঙ্গমঞ্চের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় জুয়ার আসর বসে না এমন একটি ক্লাবও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী আরামবাগ ক্লাব, দিলকুশা ক্লাব, ডিআইটিএস ক্লাব, আজাদ বয়েজ ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, বিজি প্রেস স্পোর্টিং ক্লাব, ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ কোনোটিই বাদ নেই এ বিষাক্ত ছোবল থেকে। এসব ক্লাবে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে। খেলাধুলার চর্চা বাদ দিয়ে ক্রীড়া সংগঠকদের অনেকেই এখন ক্লাবে জুয়া চালু রাখার পক্ষে। কেননা তাদের বক্তব্য, এতে ক্লাবের ‘আয়-উন্নতি’ ভালো হচ্ছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ক্লাবের প্রভাবশালী হর্তাকর্তারা লাভবান হলেও সার্বিকভাবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গড়ে ওঠা ক্লাবগুলো এখন জুয়াড়ি ও অপরাধীদের দখলে চলে গেছে বললেও ভুল বলা হবে না।

এসব ক্লাবে যারা জুয়া খেলতে আসেন তারা খেলায় হেরে গেলে লাভবান হয় সংশ্লিষ্ট ক্লাব। কারণ, প্রতিটি ক্লাবের রয়েছে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জুয়াড়ি টিম। তারা বেতনভুক্ত। কেউ কেউ ক্লাবের হয়ে কমিশনের বিনিময়ে খেলেন। তাই ক্লাবে এসে জুয়া খেলে যারা লাখ লাখ টাকা খুইয়ে যান তার সবই থেকে যায় ক্লাবের তহবিলে। পরে এসব টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হয়। আর অভিজাত ক্লাবগুলোতে যারা জুয়া খেলতে আসেন তাদের বেশিরভাগ সমাজের হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি। শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অপরাধ জগতের গডফাদারদের আনাগোনাও আছে এসব ক্লাবে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে আইনশৃংখলা বাহিনী কী করছে। এ প্রশ্নের উত্তরে ক্লাবসংশ্লিষ্ট কয়েক ব্যক্তি বলেন, তারা অবশ্যই ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু জুয়া বন্ধে নয়, বরং তাদেরও কেউ কেউ এসব আড্ডায় শরিক হন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এক সময়ের নামকরা ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের এখন অন্যতম হর্তাকর্তা সাঈদ নামের জনৈক প্রভাবশালী। তিনি সরকারি দলের নেতা পরিচয়ে ব্রাদার্স ক্লাবকে জুয়ার নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে ফেলেছেন। ঐতিহ্যবাহী মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে জুয়া চলছে জনৈক যুবলীগ নেতা সম্রাট ও তার কথিত চাচা আলীর নিয়ন্ত্রণে। ভিক্টোরিয়া ক্লাবের জুয়াও সেই সম্রাটের লোকজনের নিয়ন্ত্রণে। ফকিরাপুল ক্লাবের জুয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন জনৈক খালেদ নামের আরেক যুবলীগ নেতা। আরামবাগ ক্লাবের জুয়া নেটওয়ার্কের চাবি জনৈক সাঈদ কমিশনারের হাতে। সাঈদ কমিশনারের কথিত চাচাতো ভাই সুমন এখানকার হর্তাকর্তা। কলাবাগান ক্লাবে জুয়া চলছে সেন্টু নামের জনৈক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ শেল্টারে।

সূত্র জানায়, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এ সর্বগ্রাসী জুয়ার আস্তানা এখন ছড়িয়ে পড়ছে আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে রাজধানীর অলি-গলিতেও। কারওয়ানবাজারে প্রগতি সংঘ নামের একটি ক্লাবে জুয়া চলছে একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয়দানকারী জনৈক মোশারফের শেল্টারে। রাজধানীর উত্তরা আবাসিক এলাকায় বহুতল বাড়িভাড়া নিয়েও জুয়ার আস্তানা গজিয়ে উঠেছে। এখানকার ১৩ নম্বর সেক্টরে ‘উত্তরা ইন’ নামের একটি অখ্যাত হোটেল এখন জুয়াড়িদের আনাগোনায় দিনরাত মুখরিত।

৪ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডে ১৬/এ নম্বর বাড়িতে জমজমাট জুয়ার আস্তানা গজিয়ে উঠেছে। এর নাম দেয়া হয়েছে উত্তরা রিক্রিয়েশন ক্লাব। এখনকার হর্তাকর্তা জনৈক ডা. আজম খান। ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়ির বাইরে ঢাকা উত্তর রিক্রিয়েশন ক্লাবের সাইনবোর্ড। কিন্তু ভেতরে জমজমাট জুয়ার আসর। এখানে জুয়ার নেপথ্যে জনৈক আলম ও ইমরান নামের দুই প্রভাবশালীর নাম জানা গেছে। এছাড়া উত্তরা মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব ও নিউ মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জুয়া চলছে।

এসব ক্লাবে জুয়া খেলার অদ্ভুত সব নামকরণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে কাটাকাটি, নিপুণ, চড়াচড়ি, ডায়েস, ওয়ান-টেন, ওয়ান-এইট, তিন তাস, নয় তাস, রেমি, ফ্ল্যাশসহ অনেক কিছু। গভীর রাতে ক্লাবগুলোতে আসতে শুরু করে বিত্তবানদের অভিজাত গাড়ি। তাদের সঙ্গে থাকে ঢাকাই সিনেমার উঠতি নায়িকা থেকে শুরু করে নামি-দামি মডেল ও টিভি তারকারা। এসব মডেল-অভিনেত্রী জুয়ার আস্তানায় স্কর্ট গার্ল হিসেবে পরিচিত। এদের অনেকেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি। দিনের আলোতে যাদের মুখোশ দেখে এমনটা বোঝার উপায় নেই।

জুয়ার আসরে সরেজমিন : জুয়ার আস্তানার সরেজমিন চিত্র দেখতে ২ জানুয়ারি রাজধানীর কলাবাগান ক্লাবে হাজির হয় যুগান্তরের অনুসন্ধান সেলের সদস্যরা। সঙ্গে গোপন ভিডিও ক্যামেরা। ক্লাবে ঢোকার মুখেই লোহার গেটে তালা লাগানো। খাকি পোশাক পরিহিত দু’জন নিরাপত্তা প্রহরী বিশেষ ধরনের লাঠি হাতে সতর্ক পাহারায় দাঁড়িয়ে। গেট না খুলেই তারা জানতে চান কার কাছে এসেছেন। পরিচয় গোপন করে ভেতরে থাকা একজন বড় মাপের জুয়াড়ির নাম বলার পর তারা গেট খুলে দেন। গেটের ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দেহ তল্লাশি শুরু হয়। মোবাইল ফোন রেখে যেতে বলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। মানিব্যাগ, শার্ট ও প্যান্টের পকেট তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করা হয়। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ স্ক্যান করার পর ভেতরে যাওয়ার অনুমতি মেলে। গিয়ে দেখা যায় নিচতলায় বিশাল হলরুম। সাজানো হয়েছে জমকালো সাজে। মেঝেতে লাল রংয়ের বিদেশি কার্পেট। হলরুমের মাঝখানে মখমল কাপড়ে মোড়ানো বিশাল টেবিল। চারপাশে অভিজাত চেয়ারের সারি। রুমের একদিকে কাচঘেরা বিশেষ কাউন্টার। কাউন্টারের পেছনে কোট-টাই পরে কেতাদুরস্থ ভঙ্গিতে বসে আছেন কয়েক কর্মকর্তা। জুয়াড়িরা টাকার বান্ডিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন সেই বিশেষ কাউন্টারের দিকে। কাউন্টার থেকে একধরনের প্লাস্টিকের কয়েন দেয়া হচ্ছে। এটাকে বলা হয় চিপস। প্রতিটি চিপসের দাম ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। নগদ টাকা ভাঙিয়ে জুয়াড়িরা চিপস কিনছেন। এরপর এসে বসছেন জুয়ার টেবিলে। টেবিলের অপর প্রান্তে আছেন ক্লাবের প্রশিক্ষিত জুয়াড়ি। তিনি দক্ষ হাতে টেবিলের ওপর তাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পছন্দমতো কয়েকটি তাস তুলে নিয়ে নম্বর মেলাচ্ছেন জুয়াড়িরা। এরপর সেগুলো টেবিলে রাখছেন। একসঙ্গে ১০ জন জুয়াড়ি তাস তুললেও জিতছেন হাতেগোনা দু’একজন। এভাবে কিছুক্ষণ খেলার পর চিপস শেষ হয়ে গেলে আবারও সেই কাউন্টারে টাকা ভাঙিয়ে নতুন চিপস নিয়ে আসছেন তারা। যার যত টাকা তিনি তত বেশি চিপস নিয়ে আসছেন। জুয়াড়িদের আপ্যায়নের জন্য হলরুমের একদিকে নানা ধরনের খাবার সাজানো। খাবারের মেনুতে আছে পোলাও, গরু, খাসি ও মুরগির মাংস। আছে নানা পদের ফল ও মিষ্টি। জুয়াড়িদের অনেকে বিদেশী মদভর্তি ক্লাস হাতে নিয়ে বসছেন জুয়ার টেবিলে। মদের নেশায় বুঁদ হয়ে জুয়া খেলায় মেতে উঠছেন তারা।

এদের অনেকেই প্রতি রাতে সর্বস্ব খুইয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফেরেন। হলরুমের এক কোণে একজন জুয়াড়িকে ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা গেল। মুহূর্তেই হট্টগোল থামাতে এগিয়ে এলেন ক্লাবের বিশেষ কর্মচারীরা। তারা বাউন্সার নামে পরিচিত। হট্টগোল শেষে জাকির নামের এক জুয়াড়ি বলেন, তিনি দেড় লাখ হেরেছেন। এখন তার কাছে বাড়ি যাওয়ার জন্য রিকশা ভাড়াও নেই। অথচ ক্লাবের নিয়ম হচ্ছে- কেউ এক লাখ টাকার বেশি হেরে গেলে তাকে অন্তত ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার কথা। একে বলা হয় লুজিং মানি। কিন্তু লুজিং মানি দিতে রাজি হচ্ছে না ক্লাবের লোকজন। জুয়াড়িদের সঙ্গে কথা বলে লুজিং মানি সম্পর্কে যা জানা গেল তা অনেকটাই হাস্যকর এবং গরু মেরে জুতা দানের সেই প্রবাদের মতো। অর্থাৎ কোনো জুয়াড়ি ১ লাখ টাকা হেরে গেলে তাকে বাড়ি যাওয়ার জন্য দয়া করে হাতে কিছু ধরিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে জুয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার ক্লাবে ক্যাসিনো স্টাইলে জুয়ার আসর বসে- এ ধরনের অভিযোগ ঠিক নয়। এমন কিছু আপনার জানা থাকলে আমাকে জানাবেন।’

ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি বলেন, ‘আমাদের ক্লাবের সদস্যরা শুধু কার্ড খেলেন। বিভিন্ন ক্লাবে কাসিনোর আদলে জুয়া হলেও আমাদের এখানে এ ধরনের কোনো জুয়া চলে না।’

কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম টিংকুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। ক্লাবে গিয়েও কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের মহাসচিব এমদাদ হোসেন মতিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। একাধিকবার ওই ক্লাবে গিয়েও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরামবাগ ক্রীড়াচক্রের সাধারণ সম্পাদক এজাজ জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। একাধিকবার ওই ক্লাবে গিয়েও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফকিরাপুল ইয়াংম্যানস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। একাধিকবার ওই ক্লাবে গিয়েও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুর্বল আইন : জানা যায়, জুয়া বন্ধে দেশে যথোপযুক্ত আইনও নেই। প্রায় ২শ’ বছরের পুরনো আইনে লঘু দণ্ডের কথা বলা আছে। এ সংক্রান্ত আইন (১৮৬৭) অনুযায়ী যে কোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এ রকম কোনো ঘরে তাস, পাশা, কাউন্টার বা যে কোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। পুলিশ জুয়ার সামগ্রীর খোঁজে যে কোনো সময় (বল প্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবে বলেও এই আইনে উল্লেখ রয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, এ সংক্রান্ত আইনের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন প্রভাবশালীরা। তাই জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়েও লাভ হয় না। কারণ আদালতে জুয়াড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্লাব নির্বিঘ্নে জুয়া চালাতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতে রিট মামলা দায়ের করে। গত পাঁচ বছরে উচ্চ আদালতে এ ধরনের অন্তত দেড়শ’ রিট হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুগান্তরকে বলেন, আদালত যখন কোনো বিষয়ে অনুমতি দেন তখন কারও কিছু করার থাকে না। তবে এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের আইন কর্মকর্তারও গাফিলতি থাকতে পারে।

রাজধানীর মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় প্রকাশ্যে জুয়ার এমন রমরমা অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার যুগান্তরকে বলেন, জুয়া খেলার সময় জুয়াড়িকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হলেও আদালতে তাকে জুয়াড়ি হিসেবে প্রমাণ করা দুরূহ। জুয়াড়ি আদালতে দাঁড়িয়ে জুয়া খেলার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। ২-১টি ক্ষেত্রে প্রমাণ করা গেলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আপরাধী জামিনে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, জুয়ার বোর্ডে অভিযান চালাতে গিয়ে অভিযানকারী কর্মকর্তা উল্টো বেকায়দায় পড়েছেন, এমন নজিরও আছে। অভিযানের পর আদালতে হাজির করা হলে জুয়াড়িরা সংঘবদ্ধভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ আনেন। তারা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বলেন, জুয়ার কাউন্টার থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এতে করে তাদের উল্টো জেরার মুখে পড়তে হয়।

Facebook Comments